জুড়ী প্রতিনিধি::
মৌলভীবাজারের জুড়ী উপজেলায় হিন্দুদের হরিনাম যজ্ঞ আয়োজনকে কেন্দ্র করে সংখ্যালঘু হিন্দু সম্প্রদায়ের মধ্যে উদ্বেগ উত্তেজনা ও নিরাপত্ত্বাহীনতার সৃষ্টি হয়েছে। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, হরিনাম যজ্ঞ আয়োজন চলাকালে হিন্দু সম্প্রদায়ের পক্ষ থেকে নিয়ম অনুযায়ী পূজা উদযাপনের প্রস্তুতি নেওয়া হয়।
বুধবার (০১ ফেব্রুয়ারি) সন্ধ্যা ৬টার দিকে উপজেলার বাছিরপুর গ্রামের শ্রী শ্রী রাধামাধব সেবাশ্রমে এই ঘটনা ঘটে।
জানা যায়, জামায়াতে ইসলামীর নেতা লুৎফর রহমান আজাদী ও ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক সিরাজুল ইসলাম এবং তার কর্মীরা ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে পূজা বন্ধ করার জন্য হুমকি দিতে থাকে এবং পরিস্থিতি উত্তপ্ত করে তোলে। বিষয়টি নিয়ে এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। এ সময় সেখানে উপস্থিত থাকা সাইদুল ইসলাম নামের এক যুবক পরিস্থিতি শান্ত করতে এবং দুই পক্ষের মধ্যে সমঝোতার চেষ্টা করেন। লুৎফর রহমান আজাদী ও সিরাজুল ইসলামের লোকজন হুমকি ধামকি দিতে থাকে। একপর্যায়ে তারা পূজা উদযাপন কমিটি ও যুবক সাইদুল ইসলামকে মারধর করে ঘটনাস্থল ত্যাগ করে।
পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পূজা উদযাপন কমিটির পক্ষ থেকে বিষয়টি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয়ে অবহিত করা হয়। পরে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার নির্দেশে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে পূজা মণ্ডপে সার্বক্ষণিক নিরাপত্তা ব্যবস্থ্য গ্রহণ করে। প্রশাসনের নির্দেশনায় পূজা উদযাপন শান্তিপূর্ণভাবে চলমান থাকে।
এ বিষয়ে পূজা উদযাপন কমিটির সভাপতি নিপেশ দত্ত বলেন, আমরা প্রশাসনের অনুমতি ও সহযোগীতায় শান্তিপূর্ণভাবে দূর্গাপূজা আয়োজন করেছি। কিন্তু একটি পক্ষ পরিকল্পিতভাবে পূজা বন্ধের চেষ্টা করে, যা সাম্প্রদায়িক উসকানির শামিল। প্রশাসনের হস্তক্ষেপে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসে।
ভূক্তভোগী সাইদুল ইসলাম জানান, আমি শুধু শান্তিপূর্ণ সমাধানের চেষ্টা করেছি। এর কারণে তারা আমার উপর ক্ষীপ্ত হয়ে মারধর করে। এখন আমাকে ও আমার পরিবারকে হুমকি দেওয়া হচ্ছে। ধর্মীয় সম্প্রীতি রক্ষার চেষ্টা করাই এখন আমার জন্য বিপদের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
স্থানীয় হিন্দু সম্প্রদায়ের সদস্যরা জানান, তারা শান্তিপূর্ণভাবে ধর্মীয় অনুষ্ঠান পালন করতে চান এবং এ ধরনের হুমকি ও সাম্প্রদায়িক চাপ বন্ধে প্রশাসনের স্থায়ী নিরাপত্ত¡া ও দোষীদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা দাবি করেছেন।
এ বিষয়ে জুড়ী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোশাররফ হোসেন জানান, পুলিশ প্রশাসনের পক্ষ থেকে পূজা উপলক্ষে সার্বিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। এবং যেকোনো ধরনের সাম্প্রদায়িক উসকানি ও বিশৃঙ্খলার বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।