12 February 2026

মঙ্গলবার, ০৬ সেপ্টেম্বর ২০২২

থানা থেকে মৎস্যজীবী লীগ নেতাকে ছাড়িয়ে নিলেন বিএনপি ও জামায়াত নেতা

Share

স্টাফ রিপোর্টার::

মৌলভীবাজারের কুলাউড়া উপজেলা মৎস্যজীবী লীগের আহবায়ক ইকবাল হোসেন রিজনকে আটকের পর থানা থেকে ছাড়িয়ে নিয়েছেন উপজেলা বিএনপি ও জামায়াতের দুই নেতা। এনিয়ে জেলাজুড়ে চলছে নানা আলোচনা। পুলিশ বলছে, আওয়ামী লীগ সরকার পতনের দুইমাস আগে মৎস্যজীবী লীগের ওই নেতা জামায়াতে যোগ দিয়েছেন বলে পুলিশকে জামায়াতের একটি ফরম দেখানো হয়েছে। রিজন ২০১৯ সালের ২৮ ডিসেম্বর থেকে কুলাউড়া উপজেলা মৎস্যজীবী লীগের আহবায়কের দায়িত্ব পালন করছেন। এছাড়া তিনি স্থানীয় আমতলা বাজার ব্যবসায়ী কল্যাণ সমিতির সাধারণ সম্পাদক। গত ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগের দলীয় মনোনয়ন পেতে ফরমও কিনেছিলেন।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বুধবার রাতে ইকবাল হোসেন রিজনকে উপজেলার রাউৎগাঁও ইউনিয়নের আমতলা বাজার থেকে আটক করে কুলাউড়া থানার পুলিশ। আটকের খবর পেয়ে তাকে ছাড়াতে কুলাউড়া থানায় যান উপজেলা বিএনপির যুগ্ম আহবায়ক আব্দুল জলিল জামাল ও রাউৎগাঁও ইউনিয়ন জামায়াতের সভাপতি নেতা ইকবাল সালাম। মৎস্যজীবী লীগের উপজেলা কমিটির আহবায়ক ইকবাল হোসেন রিজন গত বছরের ১৪ জুন জামায়াতে ইসলামীতে যোগ দিয়েছেন বলে পুলিশকে জানান জামায়াত নেতা ইকবাল সালাম। স্থানীয় লোকজনও এসময় তাকে ছেড়ে দিতে অনুরোধ করলে পুলিশ রাতেই তাকে ছেড়ে দেয়।

ছাড়া পাওয়া ইকবাল হোসেন রিজন (০১৭১২৪৯৭৯৮৬) ও উপজেলা বিএনপির যুগ্ম আহবায়ক আব্দুল জলিল জামালের মুঠোফোনে (০১৭১১৪৭১১৮০) একাধিকবার যোগাযোগ করা হলেও তা বন্ধ পাওয়া যায়।

জেলা মৎস্যজীবী লীগের সাবেক সাধরণ সম্পাদক অভিনাষ চন্দ্র দেব বলেন, কয়েকজন এসে আমাদের থেকে কুলাউড়ার কমিটি নিয়েছিল। পরে কেউ আর কোনো যোগাযোগ করে নি। মৎস্যজীবী লীগের আহবায়ক ইকবাল হোসেন রিজন পরে পদত্যাগ করেছেন কিনা আমার জানা নেই। তিনি জামায়াতে যোগ দিয়েছেন এমন খবরও জানি না। আমাদের জেলা কমিটি বিলুপ্ত করার পর রাজনীতিতে আর আমি সক্রিয় হই নি।

কুলাউড়া উপজেলা জামায়াতের আমীর আব্দুল মুনতাজিম বলেন, ইকবাল হোসেন রিজন প্রায় এক বছর ধরে জামায়াতের সমর্থক হিসেবে রয়েছেন। তিনি মৎস্যজীবী লীগের কমিটিতে থাকলেও সক্রিয় ছিলেন না। মূলত আওয়ামী লীগের নেতাদের সাথে ঘুরাঘুরি করতেন। তিনি মৎস্যজীবী লীগ থেকে পদত্যাগ করে জামায়াতে যোগ দিয়েছেন কিনা জানতে চাইলে এ ব্যাপারে কোনো উত্তর দেন নি।

কুলাউড়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. গোলাম আপছার বলেন, রিজনকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য থানায় আনা হয়েছিল। পরে আমরা জানতে পারি তিনি আগে শিবির করতেন। মৎস্যজীবী লীগের কমিটিতে থাকলেও কোনো অপকর্ম বা দলীয় প্রভাব খাটিয়ে কারো ক্ষতি করেন নি বলে স্থানীয়রা জানান। তিনি গত বছরের ১৪ জুন জামায়াতে যোগ দিয়েছেন বলে ফরমও আমাদের দেখানো হয়েছে। বিএনপি নেতা আব্দুল জলিল জামাল ও জামায়াত নেতা ইকবাল সালামসহ বাজারের ব্যবসায়ীরাও তাকে ছেড়ে দিতে অনুরোধ করলে উর্ধ্বতন কর্তপক্ষের সাথে কথা বলে তাকে ছেড়ে দেয়া হয়।