18 May 2024

মঙ্গলবার, ০৬ সেপ্টেম্বর ২০২২

ইসরায়েলি বাহিনী গাজায় হত্যার পাশাপাশি চালিয়েছে লুটপাট

Share

ফটোনিউজবিডি ডেস্ক:

ফিলিস্তিনের গাজা উপত্যকায় চলমান অভিযানে ব্যাপক ধ্বংস ও হত্যার পাশাপাশি লুটপাটও চালিয়েছে ইসরায়েলি বাহিনী। গত তিন মাসে উপত্যকা থেকে প্রায় আড়াই কোটি ডলারের সমপরিমাণ মূল্যের অর্থ স্বর্ণালঙ্কার ও শিল্পকর্ম লুট করেছে ইসরায়েলি সেনারা।

উপত্যকায় ক্ষমতাসীন হামাস নিয়ন্ত্রিত সরকারি মিডিয়া অফিস রোববার এক বিবৃতিতে জানিয়েছে এ তথ্য।

বিবৃতিতে বলা হয়েছে, ‘গাজা উপত্যকায় গত ৯২ দিনের অভিযানে উপত্যকার বাসিন্দাদের বাসভবন, ব্যাংক ও দোকান থেকে ৯ কোটি শেকেল (আড়াই কোটি ডলার) সমমূল্যের অলঙ্কার, অর্থ ও শিল্পকর্ম লুটপাট করেছে ইসরায়েলের দখলদার বাহিনী।’

‘ইসরায়েলি বাহিনীর বোমাবর্ষণ থেকে বাঁচতে বাড়িঘর ছেড়ে যেসব ফিলিস্তিনি শরণার্থী শিবিরের দিকে ছুটছেন, তাদের বাড়িঘরে ঢুকে মূল্যবান সামগ্রী যা পেয়েছে হাতিয়ে নিয়েছে ইসরায়েলি সেনারা। এমনকি আশ্রয়ের সন্ধানে ছুটতে থাকা ফিলিস্তিনিদের তল্লাশীর নামে তাদের কাছ থেকেও অর্থ ও মূল্যবান সামগ্রী হাতিয়ে নিয়েছে টহলরত ইসরায়েলি সেনারা।’

‘অনেক সেনা আবার লুটপাটের পর লুন্ঠিত সামগ্রীর ছবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে শেয়ারও করেছে।’

গাজার মিডিয়া অফিসের এই অভিযোগের প্রতিক্রিয়ায় এখনও কোনো মন্তব্য করেনি ইসরায়েলের সরকার কিংবা প্রতিরক্ষা বাহিনী (আইডিএফ)।

গত ৭ অক্টোবর ইসরায়েলের উত্তরাঞ্চলীয় ইরেজ সীমান্তে হামাস যোদ্ধারা অতর্কিত হামলা চালানোর পর ওই দিন থেকেই গাজায় অভিযান শুরু করে ইসরায়েলি বিমানবাহিনী। ২৮ অক্টোবর থেকে অভিযানে যোগ দেয় স্থলবাহিনীও।

ইসরায়েলি বাহিনীর টানা দেড় মাসের অভিযানে কার্যত ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়েছে গাজা উপত্যকা, নিহত হয়েছেন ২২ হাজারেরও বেশি ফিলিস্তিনি। এই নিহতদের ৭০ শতাংশই নারী, শিশু, অপ্রাপ্তবয়স্ক কিশোর-কিশোরী এবং বয়স্ক লোকজন। তার মধ্যে গত শনিবার নিহত হয়েছেন ১২০ জন।

আহত হয়েছেন আরও ৫৪ হাজার ৯৬৮ জন এবং এখনও নিখোঁজ রয়েছেন ৭ হাজার জন। এছাড়া হাজার হাজার পরিবার বাড়িঘর-সহায় সম্বল হারিয়ে আশ্রয় নিয়েছেন বিভিন্ন স্কুল, সরকারি প্রতিষ্ঠান ও হাসপাতাল প্রাঙ্গণে। জাতিসংঘের হিসেব অনুযায়ী ইসরায়েলি বাহিনীর গত ৩ মাসের অভিযানে নিহত বাস্তুহারা হয়েছেন অন্তত ২৩ লাখ ফিলিস্তিনি।

অন্যদিকে, হামাসের গত ৭ অক্টোবরের হামলায় ইসরায়েলে নিহত হয়েছিলেন ১ হাজার ২০০ জন ইসরায়েলি ও অন্যান্য দেশের নাগরিক। পাশাপাশি, ইসরায়েলের ভূখণ্ড থেকে ২৪২ জন ইসরায়েলি ও অন্যান্য দেশের নাগরিককে সেদিন জিম্মি হিসেবে ধরে নিয়ে যান হামাস যোদ্ধারা। তাদের মধ্যে এখনও মুক্তির অপেক্ষায় রয়েছেন ১২৯ জন জিম্মি।

ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু বলেছেন, হামাসকে সম্পূর্ণ ধ্বংস এবং গাজাকে পরিপূর্নভাবে নিরস্ত্রীকরণ করার আগ পর্যন্ত এই যুদ্ধ চলবে।

সূত্র : আনাদোলু এজেন্সি