05 March 2026

মঙ্গলবার, ০৬ সেপ্টেম্বর ২০২২

তিন বছর আহ্বায়ক কমিটি দিয়েই চলছে বিএনপি

Share

জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে জয়পুরহাটে আওয়ামী লীগের কোন্দল চরম আকার ধারণ করেছে। কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক ও জাতীয় সংসদের হুইপ আবু সাঈদ আল মাহমুদ এবং জেলা আওয়ামী লীগের সাবেক সভাপতি সংসদ সদস্য সামছুল আলমের নেতৃত্বে দুই ধারায় বিভক্ত জেলা আওয়ামী লীগ। দুই পক্ষের নেতারা আলাদা আলাদা কর্মসূচি পালন করেন।
বিভক্ত জেলা বিএনপির নেতা-কর্মীরাও। প্রায় তিন বছর ধরে আহ্বায়ক কমিটি দিয়েই চলছে জেলা বিএনপি। উপজেলা ও ইউনিয়ন পর্যায়েও একই অবস্থা। বর্তমানে আহ্বায়ক ও যুগ্ম আহ্বায়কের সঙ্গে কেন্দ্রীয় সহসাংগঠনিক সম্পাদক (রাজশাহী) এ এইচ ওবায়দুর রহমান ওরফে চন্দন এবং সাবেক সংসদ সদস্য গোলাম মোস্তফা ও দলের কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য ফয়সাল আলীমের নেতৃত্বে দুই পক্ষ দীর্ঘদিন ধরে আলাদা দলীয় কর্মসূচি পালন করছে।
মনোনয়ন ঘিরে দ্বন্দ্ব আওয়ামী লীগে
১৯৯১ থেকে ২০১৪ সাল পর্যন্ত জেলার দুটি আসনই বিএনপির দখলে ছিল। ২০১৪ সালে ভোট বর্জনের মধ্য দিয়ে আসন দুটি বিএনপির হাতছাড়া হয়। জয়পুরহাট-১ (সদর-পাঁচবিবি) আসনে সামছুল আলম ও জয়পুরহাট-২ (আক্কেলপুর-ক্ষেতলাল-কালাই) আসনে আবু সাঈদ আল মাহমুদ বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হন। ২০১৮ সালেও তাঁরা দলীয় মনোনয়নে সংসদ সদস্য হন।
দলীয় সূত্র জানায়, ২০২০ সালে জেলা আওয়ামী লীগের সর্বশেষ সম্মেলনে সামছুল আলমকে বাদ দিয়ে জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান আরিফুর রহমানকে সভাপতি করা হয়। সাধারণ সম্পাদক করা হয় জাকির হোসেনকে। সম্মেলনের ৯ মাস পর কমিটি পূর্ণাঙ্গ করা হয়। এর মধ্যে আবু সাঈদ আল মাহমুদের বিরুদ্ধে জেলার কয়েকজন নেতা কেন্দ্রে তৎপর হন। তখন থেকেই জেলা আওয়ামী লীগের নেতাদের মধ্যে দ্বন্দ্ব-বিভক্তির সূত্রপাত।
নেতা-কর্মীরা জানান, বর্তমানে জেলা আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মীরা দুই ধারায় বিভক্ত। একটি পক্ষের নেতা-কর্মীরা সংসদ সদস্য সামছুল আলমের পক্ষে এবং অন্য পক্ষের নেতা-কর্মীরা হুইপ আবু সাঈদ আল মাহমুদের পক্ষে।
দলীয় সূত্র জানায়, নির্বাচনকে সামনে রেখে জয়পুরহাট-১ আসনে বর্তমান সংসদ সদস্য সামছুল আলমের পাশাপাশি জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি আরিফুর রহমান, সহসভাপতি নৃপেন্দ্রনাথ মণ্ডল, সাধারণ সম্পাদক জাকির হোসেন, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ও জয়পুরহাটের মেয়র মোস্তাফিজুর রহমান, সদর উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান এস এম সোলায়মান আলী গণসংযোগ করছেন। অন্যদিকে জয়পুরহাট-২ আসনে হুইপ আবু সাঈদ আল মাহমুদ ছাড়া জেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক গোলাম মাহফুজ চৌধুরী ও আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় যুব ও ক্রীড়া উপকমিটির সদস্য তাজমহল হিরক গণসংযোগ চালাচ্ছেন।
জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক জাকির হোসেন বলেন, জেলা আওয়ামী লীগে কোনো দ্বন্দ্ব নেই, নেতাদের মধ্যে মনোনয়ন নিয়ে প্রতিযোগিতা আছে। নেতাদের ব্যক্তিগত পছন্দ-অপছন্দ থাকতে পারে।
দলীয় নেতা-কর্মীদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, জেলার পাঁচটি উপজেলা ও পাঁচটি পৌর আওয়ামী লীগে সম্মেলন করে কমিটি ঘোষণা করা হয়েছে। তবে কালাই ও আক্কেলপুর উপজেলা ছাড়া সদর, পাঁচবিবি ও ক্ষেতলাল উপজেলায় এখনো পূর্ণাঙ্গ কমিটি ঘোষণা করা হয়নি। সহযোগী সংগঠনের মধ্যে ছাত্রলীগের কমিটি মেয়াদোত্তীর্ণ। সম্প্রতি যুবলীগের কমিটির বিলুপ্ত করে ৪১ সদস্যবিশিষ্ট আহ্বায়ক কমিটি গঠন করা হয়েছে। দলটির নেতা-কর্মীরা দলীয় মনোনয়নপ্রত্যাশীদের সঙ্গে বিভক্ত হয়ে বিভিন্ন এলাকায় গণসংযোগ করছেন।
জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি আরিফুর রহমান বলেন, পাঁচবিবি উপজেলা পূর্ণাঙ্গ কমিটি জমা দিয়েছে। সদর ও ক্ষেতলালের এখনো জমা হয়নি। মহিলা আওয়ামী লীগ, স্বেচ্ছাসেবক লীগ, শ্রমিক লীগের পূর্ণাঙ্গ কমিটি আছে। তাঁরা দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের জন্য পুরোপুরি প্রস্তুত আছেন।
নতুন-পুরোনো দ্বন্দ্বে বিভক্ত বিএনপি
জেলা বিএনপির আহ্বায়ক অধ্যক্ষ শামছুল হক মারা যাওয়ার পর ১ নম্বর যুগ্ম আহ্বায়ক গোলজার হোসেনকে আহ্বায়কের দায়িত্ব দেয় কেন্দ্রীয় বিএনপি। তিন মাস মেয়াদের ওই কমিটি প্রায় তিন বছর পার করেছে। উপজেলা ও ইউনিয়ন পর্যায়েও দলটির একই অবস্থা। বর্তমানে জেলা বিএনপি দুই ভাগে বিভক্ত। এক পক্ষে জেলা বিএনপির আহ্বায়ক গোলজার হোসেন, যুগ্ম আহ্বায়ক মাসুদ রানা প্রধানের সঙ্গে কেন্দ্রীয় সহসাংগঠনিক সম্পাদক এ এইচ ওবায়দুর রহমান আছেন। অন্য পক্ষে নেতৃত্ব দিচ্ছেন সাবেক সংসদ সদস্য গোলাম মোস্তফা ও কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য ফয়সাল আলীম। দীর্ঘদিন ধরে দুই পক্ষ আলাদা দলীয় কর্মসূচি পালন করে আসছেন।
দলীয় সূত্রে জানা গেছে, ২০১৮ সালে জাতীয় নির্বাচনের আগে দলে কোন্দল দেখা দেয়। তখন থেকেই জেলার নেতা-কর্মীরা বিভক্ত হয়ে পড়েন। এর প্রভাব পড়ে উপজেলা ও ইউনিয়ন পর্যায়েও। পাঁচটি উপজেলা ও পাঁচ পৌরসভার মধ্যে পাঁচবিবি ও ক্ষেতলাল উপজেলায় সম্মেলনের মাধ্যমে কমিটি করা হয়েছে। পাঁচটি পৌরসভার মধ্যে শুধু ক্ষেতলালে কমিটি হয়েছে। আক্কেলপুর, কালাই ও জয়পুরহাটে হালনাগাদ কমিটি থাকায় সম্মেলন হয়নি।