24 February 2024

মঙ্গলবার, ০৬ সেপ্টেম্বর ২০২২

সরঞ্জাম আছে, লোকবল নেই: বিসিবি

Share

ফটোনিউজবিডি ডেস্ক:

আয়োজনে ঘাটতি রেখে শুক্রবার থেকে শুরু হচ্ছে বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগের (বিপিএল) নবম আসর। এবারও যাচ্ছেতাই ও দায়সারা ব্যবস্থাপনায় প্রতিযোগিতা আয়োজন করতে যাচ্ছে আয়োজক বিপিএল গভর্নিং কাউন্সিল। যেখানে নেই আধুনিক ক্রিকেটের অতি গুরুত্বপূর্ণ প্রযুক্তি ডিসিশন রিভিউ সিস্টেম (ডিআরএস)। গতবারের মতো এবারও ব্যবহার করা হবে এডিআরএস। ডিআরএস না থাকায় গত আসরে শুরুর দিকে কয়েক ম্যাচে আম্পায়ারের সিদ্ধান্তে প্রকাশ্যে অসন্তোষ জানিয়েছিলেন খেলোয়াড়েরা। এবারও সেরকম কিছুই হবে তা বোঝা যাচ্ছে। কারণ মাঠে বল গড়ানোর আগেই ডিআরএস না থাকায় কড়া সমালোচনা শুরু হয়েছে।

কুমিল্লা ভিক্টোরিয়ান্সের কোচ মোহাম্মদ সালাউদ্দিন বিসিবির কোষাগারে থাকা বিপুল অর্থ কোন কাজে লাগবে সেই প্রশ্ন তুলেছেন। ডিআরএস আনতে না পারায় দেশের ক্রিকেটের সবচেয়ে বড় সুপারস্টার সাকিব আল হাসান আয়োজকদের সদিচ্ছার অভাব রয়েছে বলে অভিমত দিয়েছেন। আয়োজকদের পেশাদারিত্ব নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন বিশ্বের বিভিন্ন দেশে টি-টোয়েন্টি ফেরি করে বেড়ানো সাকিব। তাদের সঙ্গে আজ যোগ দিয়েছেন মাশরাফি বিন মুর্তজাও। সিলেট স্ট্রাইকার্সের অধিনায়কও সাকিবের কণ্ঠে সুর মিলিয়েছেন। ডিআরএস না থাকায় গত কয়েকদিন ধরেই প্রবল সমালোচিত হয়ে আসছে বোর্ড। গত কয়েকদিন ধরে চলা এই সমালোচনায় মুখ খুলছিলেন না আয়োজকদের কেউ। বৃহস্পতিবার স্পন্সরের নাম ঘোষণার সংবাদ সম্মেলনে হাজির হয়েছিলেন বিসিবির প্রধান নির্বাহী নিজামউদ্দিন চৌধুরী সুজন। সেখানেই ডিআরএস না থাকা নিয়ে সাফাই গাইলেন বিসিবির প্রধান নির্বাহী।

নিজামউদ্দিন চৌধুরী বললেন, ‘দুই-তিন মাস আগেই আমাদের প্রডাকশন টিম বিষয়টি জানায় (ডিআরএস)। এরপর আমরা আমাদের জায়গা থেকে ডিআরএস আনার সব চেষ্টা করেছি। আইসিসির সঙ্গেও এ নিয়ে যোগাযোগ করেছি। কিন্তু কোনো কারণে সেটা আনা সম্ভব হয়নি। কারণ একই সময়ে বেশ কিছু আন্তর্জাতিক ক্রিকেট চলছে। কিছু ফ্র্যাঞ্চাইজি লিগও চলছে। এসব কারণেই আমরা ডিআরএস আনতে পারিনি।’

বিপিএলের পাশাপাশি পিঠাপিঠি সূচিতে শুরু হচ্ছে দক্ষিণ আফ্রিকায় এসএ টি-টোয়েন্টি (১০ জানুয়ারি) এবং আবুধাবিতে আইএলটি (১৩ জানুয়ারি)। সেসব প্রতিযোগিতা প্রথমবারের মতো মাঠে গড়াতে যাচ্ছে। প্রথম আসর থেকেই আয়োজকরা সম্ভাব্য সকল সুবিধা নিশ্চিত করেছে। ডিআরএস তাদের মধ্যে অন্যতম। অথচ বিপিএল পুরোনো আসর হলেও নেই কোনো নতুনত্ব বরং ডিআরএসের মতো সামান্য সুযোগ সুবিধাও নেই। নিজামউদ্দিন চৌধুরী নিজেদের সীমাবদ্ধতা ও ঘাটতি স্বীকার করে নিয়েছেন, ‘আমাদের এখানে অবশ্যই সীমাবদ্ধতা ছিল। যে কারণে আমাদের প্রডাকশন হাউজ সেটা আনতে পারেনি। আমরাও এটা জানার পর নিজের পক্ষ থেকে যথেষ্ট চেষ্টা করেছি। কিন্তু এই মুহূর্তে যারা ডিআরএস সার্ভিস দিয়ে থাকে, তাদের যথেষ্ট লোকবল নেই। ভারত সিরিজের পর ডিআরএসের জিনিসপত্র পড়ে আছে। কিন্তু ব্যবহার করার লোক নেই।’

ডিআরএসের জন্য বিশাল অঙ্কের টাকা খরচ করতে হয়। এক মাসেরও বেশি সময়ে বিপিএলে ডিআরএস থাকলে খরচ হবে কয়েক কোটি টাকা। টাকা খরচের অনিচ্ছা, সদিচ্ছা; বিসিবির কোনোটারই ঘাটতি নেই বলে জানালেন বিসিবির প্রধান নির্বাহী, ‘এখানে টাকার বিষয় ছিল না। আমাদের মাথায় যখন এসেছে, আমরা সব সময় চেষ্টা চালিয়ে গেছি। আমি ব্যক্তিগতভাবে আইসিসির কমার্শিয়াল হেডের সঙ্গে কথা বলেছি। কারণ তার সঙ্গে ডিআরএসের ভালো সম্পর্ক। আমি অন্যান্য বোর্ডের সঙ্গেও যোগাযোগ করেছি কিন্তু তারা এ সময় বুক অ্যান্ড লক। যেটা আমাদের সীমাবদ্ধতার বাইরে চলে গেছে।’