18 May 2024

মঙ্গলবার, ০৬ সেপ্টেম্বর ২০২২

শেখ হাসিনার অধীনে কোন নির্বাচন নয়: ফখরুল

Share

ফটোনিউজবিডি ডেস্ক:

বর্তমান শেখ হাসিনার সরকারের অধীনে সাধারণ নির্বাচন হবে না জানিয়ে বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, তত্ত্বাবধায়ক বা নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে নতুন নির্বাচন কমিশন গঠন করে আগামী সাধারণ নির্বাচন দিতে হবে।

বরিশাল নগরীতে শনিবার (৫ নভেম্বর) বিকেলে বিএনপির বিভাগীয় গণসমাবেশে প্রধান অতিথি বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।

মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, আওয়ামীলীগ সন্ত্রাস করবে, আর চুরি করবে; এটা হয় না। ২০১৪ সালে ও ২০১৮ সালে ভোট চুরি করে ক্ষমতায় এসেছে। এখন আবারও নতুন করে ভোট চুরির ফায়দা আটছে। নতুন বুদ্ধি এঁটে নতুন নির্বাচন কমিশন দিয়ে কৌশলে ভোট চুরির চিন্তা করছে। কিন্তু শেখ হাসিনার অধীনে নির্বাচন হবে না।

অসহনীয় দ্রব্যমূল্য, লাগাতার লোডশেডিং, দুর্নীতি-দুঃশাসন, লুটপাট, মামলা-হামলা, গুম, হত্যা, জনগণের ভোটাধিকার পুনঃপ্রতিষ্ঠা ও বেগম খালেদা জিয়ার নিঃশর্ত মুক্তির দাবিতে গণসমাবেশের ডাক দেয় বিএনপি। সকাল সাড়ে ১০টায় শুরু হওয়া সমাবেশ শেষ হয় বিকাল ৫টা ১৫ মিনিটে।

মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, ‘দ্রব্যমূল্য বৃদ্ধিতে কোনো পণ্যে হাত দেওয়া যায় না। আমরা এ থেকে মুক্তি চাই, পরিত্যাণ চাই। আমাদের এই আন্দোলন বিএনপির জন্য নয়, খালেদা জিয়ার জন্য নয়, তারেক রহমানের জন্য নয় কিংবা আমাদের নেতাদের জন্য নয়; এ আন্দোলন জাতি ও দেশের প্রয়োজনে, সমগ্র জাতি রক্ষা করার জন্য।’

সমাবেশে প্রধান অতিথি তার ১০ মিনিট বক্তব্যে আরও বলেন, ‘একটা জায়গা দেখান, যেখানে এই সরকার দূনীতি করেনি। বিনাপয়সার সার দেওয়ার কথা বলেছে, কিন্তু আমাদের সময়ের থেকে তিনগুণ বেশি দামে সার দিচ্ছে। সরকার হামলা আর মামলা করছে।’

সমাবেশে প্রধান বক্তা ও দলের জাতীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাস বলেন, ‘অনেকে বলবেন জনসমাবেশে লোক কম হয়েছে। কিন্তু আপনারা যে এত বাধা-বিপত্তি পেরিয়ে জনসমাবেশকে জনসমুদ্রে রূপ দিয়েছেন, এটাই প্রমাণ করে বিএনপির প্রতি, দেশের প্রতি আপনাদের ভালোবাসা কতটা।’

তিনি আরও বলেন, এ সরকারকে বিদায় জানাতে হবে ভোটের মাধ্যমে। না হলে দেশের আর কিছু বাকি থাকবে না। এই সরকারের অধীনে নির্বাচন নয়, ইভিএমএ নির্বাচন নয়।

বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেছেন, ‘খেলা হবে, কিন্তু সেই খেলা কার সঙ্গে খেলব? মাঠে আসুন, তখন দেখা যাবে, খেলা হবে, কি হবে না।’

আমীর খসরু মাহমুদ আরও বলেন, ‘বেগম খালেদা জিয়া চাইলে আওয়ামীলীগের মতো গুম-খুন করে ক্ষমতায় থাকতে পারতেন। কিন্তু তিনি গণতন্ত্রে বিশ্বাস করেন, তাই তিনি দেশের শান্তি ও উন্নয়নের জন্য ক্ষমতা ধরে রাখেননি।’

তিনি আরও বলেন, ‘মানুষকে খাওয়ানোর পয়সা নেই কিন্তু ভোট চুরির মেশিন কেনার পয়সা আছে। এবারের পরীক্ষায় আওয়ামী লীগ নকল করেও পাস করতে পারবে না। বেগম খালেদা জিয়াকে ব্লাকমেইল করেও যেমন কাজ হবে না, তেমনি মামলা দিয়েও কাজ হবে না। দেশের খুন-গুম, দ্রব্যমূল্যের উর্ধ্বগতির সব কিছুর কারণ ভোট চুরি।’

দলের যুগ্ম মহাসচিব মজিবর রহমান সরোয়ার বলেন, ‘বেতন বাড়েনি কিন্তু নিত্যপণ্যের দাম বেড়েছে। জনগণকে বাদ দিয়ে কোনো উন্নয়ন হবে না। স্বাধীনতা যুদ্ধ থেকে শুরু করে গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের লড়াইয়ে বরিশালের মানুষ রক্ত দিয়েছে। তাই তাদের দাবি দাবিয়ে রাখা যাবে না। এই সরকারে পতন না ঘটিয়ে ঘরে ফিরে যাব না।’

দলের যুগ্ম মহাসচিব মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল বলেন, ‘জনগণের আদালতে সবকিছুর বিচার হবে। আমরা মানুষের অধিকার আদায়ে আন্দোলন করে যাচ্ছি। এবং এ আন্দোলন সফল হবে।’

বরিশাল মহানগর বিএনপির আহ্বায়ক মো. মনিরুজ্জামান ফারুকের সভাপতিত্বে আরও বক্তব্য রাখেন দলের জাতীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. আব্দুল মঈন খান, ভাইস চেয়ারম্যান মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমেদ, ব্যারিস্টার শাহজাহান ওমর, আলতাফ হোসেন চৌধুরী, সেলিমা রহমান, হাবিবুন নবী সোহেল, সাংগঠনিক সম্পাদক বিলকিস জাহান শিরিন প্রমুখ।

এদিকে, গণসমাবেশে প্রধান অতিথি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের বক্তব্য শুরুর আগেই সমাবেশস্থলের আশপাশে থাকা ব্যানার সরিয়ে নেয় নেতাকর্মীরা।

বিকাল পৌনে ৫টা থেকে সমাবেশস্থল বঙ্গবন্ধু উদ্যানের সামনের সড়ক চাঁদমারি থেকে সমাবেশ উপলক্ষে টানানো ব্যানার নিয়ে যেতে থাকে বিএনপি নেতাকর্মীরা।

যুবদলকর্মী আমির হোসেন বলেন, ‘সমাবেশ শেষ হওয়ার আগেই এখান থেকে সরতে হবে, তা না হলে ঝামেলায় পড়বো। তাই নেতার ব্যানার সরিয়ে নিচ্ছি।’

কাওছার হোসেন নামে এক ছাত্রদল কর্মী বলেন, ‘ব্যানারগুলো নষ্ট করবে সমাবেশ শেষ হলে, তাই আগেভাগেই সরিয়ে ফেলছি।’