24 February 2024

মঙ্গলবার, ০৬ সেপ্টেম্বর ২০২২

প্রথমবারের মতো সিডনি ক্রিকেট গ্রাউন্ডে নামার অপেক্ষায় বাংলাদেশ

Share

ফটোনিউজবিডি ডেস্ক:

১৮৪৮ সালে স্থাপিত হওয়া সিডনি ক্রিকেট গ্রাউন্ডে প্রথমবার মাঠে নামার অপেক্ষায় বাংলাদেশ। বৃহস্পতিবার টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে সুপার টুয়েলভে নিজেদের দ্বিতীয় ম্যাচে বাংলাদেশ খেলবে দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে। নিজেদের প্রথম ম্যাচ জেতায় বাংলাদেশ বেশ আত্মবিশ্বাসী। বৃষ্টিতে জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে পয়েন্ট ভাগাভাগি করায় দক্ষিণ আফ্রিকা জয়ের ক্ষুধায় মগ্ন। দুই দলের ম্যাচে হাড্ডাহাড্ডি লড়াইয়ের আভাস পাওয়া যাচ্ছে।

সিডনি ক্রিকেট গ্রাউন্ড মানেই ইতিহাস আর ঐতিহ্যের মেলবন্ধন। কিংবদন্তি স্যার ডন ব্র্যাডম্যানের বাড়ি হিসেবে সিডনি ক্রিকেট গ্রাউন্ড অস্ট্রেলিয়ান ক্রিকেট সংস্কৃতির একটি বড় অংশ। এছাড়া ওয়াহ ব্রাদার্সের আস্তানা এবং সর্বকালের অন্যতম সেরা শেন ওয়ার্ন ও গ্লেন ম্যাকগ্রার বিদায়ী ম্যাচের জন্য বিখ্যাত হয়ে আছে। অস্ট্রেলিয়ার সর্বকনিষ্ঠ টেস্ট সেঞ্চুরিয়ান প্রয়াত ফিলিপ হিউজের মাথায় আঘাত পাওয়ার হৃদয়বিদারক ঘটনার সাক্ষীও হয়ে আছে সিডনি ক্রিকেট গ্রাউন্ড।

মাঠের ক্রিকেটের পাশাপাশি অস্ট্রেলিয়ার ক্রিকেটের প্রাণকেন্দ্র এই মাঠের সীমানা নিয়েও নিয়মিত চর্চা হয়। বিশ্বের অন্যতম বড় এই মাঠের সীমানা ক্রিকেটের অন্যান্য মাঠের থেকে একটু বড়, আলাদা। লম্বায় বা সোজাসুজি এর সীমানার দূরত্ব প্রায় ৯৩ মিটার। দ্বিতীয় সর্বোচ্চ লর্ডসের স্ট্রেইট বাউন্ডারির দূরত্ব ৮৮.৮৭ মিটার। ফলে দুই দলের যে কোনও ব্যাটসম্যান বোলারের মাথার উপর দিয়ে ছক্কা মারলে প্রচণ্ড শক্তির ব্যবহার করতে হবে। নয়তো সীমানায় ধরা পড়তেই হবে। এছাড়া মিড উইকেটের দূরত্ব ৭৪ মিটার, উল্টোপাশেই ৭০ মিটার। স্কয়ার লেগ পজিশনে বাউন্ডারির দূরত্ব ৬৬ মিটার, আরেকপাশে ৬৮ মিটার। এখানে কাউ কর্নার যেটাকে বলা হয় সেটার দূরত্বও ৭২ মিটার। সীমানার কারণে ক্রিকেটের এই মাঠকে সর্ববৃহৎ মাঠ বলা হয়।

তাই তো প্রথমবার এই মাঠে খেলার রোমাঞ্চ যতটুকু আছে বাংলাদেশের, সীমানা নিয়ে উদ্বেগও আছে। তবে অধিনায়ক সাকিব আল হাসান তার উদ্বেগ বুঝতে দেননি গণমাধ্যমের কাছে, ‘এই মাঠটা একটা দিকে ৭৫ মিটার আরেকটা দিকে ৬৮ মিটার- এই এটুকুই জানি। এটা খুব প্রেস্টিজিয়াস এবং খুব ভালো একটা মাঠ। এই প্রথম আমি এবং আমরা পুরো দল প্রেস্টিজিয়াস এ মাঠে খেলতে এলাম। যদিও আরও আগে খেলা উচিত ছিল বলে আমি মনে করি। অবশেষে খেলতে পারছি এটা ভালো ব্যাপার। এমন একটা মাঠে নিজেদেরকে মেলে ধরা দেশের জন্য গুরুত্বপূর্ণ।’

তবে এই মাঠে রানের ফোয়ারা ছোটে। গড় রান ১৬০। অস্ট্রেলিয়ার অন্যান্য ভেন্যু এমসিজি, গ্যাবা বা পার্থের মতো বল ওতটা লাফায় না। বল সুন্দরভাবে ব্যাটে আসে। ব্যাটসম্যানরা সময় নিয়ে খেলতে পারেন। সমান বাউন্স থাকে এবং বল খানিকটা ধীর গতির। স্পিনাররা এ মাঠে সুযোগ তৈরি করতে পারেন। বল টার্ন করাতে পারলে সাফল্যের ভালো সুযোগ থাকে। অক্টোবর-নভেম্বরে এখানকার তাপমাত্রা গড়ে ২২ ডিগ্রির আশেপাশে থাকে। প্রচুর শীতও থাকে না। তীব্র গরমও থাকে না। ফলে ক্রিকেট খেলার দারুণ আবহাওয়া পাওয়া যায়।